ফিজিওলজি তথা শারীর বিদ্যা বুঝতে হলে কিছু রসায়নবিদ্যার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত সৃষ্ট যাবতীয় বস্তুর আদিম অবস্থা - Atom
বা পরমাণুকেই ধরা হয়। এই পরমাণুর তৈরি হয়েছে
তিন রকমের তড়িৎ কনা দিয়ে - প্রোটন, ইলেক্ট্রন ও নিউট্রন। প্রোটন-পজিটিভ (ধনাত্মক), ইলেকট্রন
নেগেটিভ (ঋণাত্মক), আর
নিউট্রন মানে, পজিটিভও নয়, নেগেটিভও নয়—এটি
নিউট্রাল বা নিস্তড়িৎ কণা। এক জোড়া প্রোটন ও এক জোড়া নিউট্রন মিলে একটি কেন্দ্রা (নিউক্লিয়াস) তৈরী করে, যাকে ঘিরে আলোক গতিতে ইলেক্ট্রন পৃথক পৃথক কক্ষে ঘুরতে থাকে। এই
নিউক্লিয়াসকে এক ইউনিট্ আলফা কনা বলা হয়। এরা রেডিও এক্টিভ, পরমাণু থেকে ছিটকে বেরিয়ে যেতে চায়। নিউট্রন থাকার দরুন প্রত্যেক এটম নিউট্রাল অবস্থায়
থাকে।
যেমন সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলি ঘুর চলেছে, তেমনি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র কোরে ইলেক্টনেরা নিয়ত ঘুরতে থাকে। প্রত্যেক মৌলিক পরমাণুর প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেক্ট্রনের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে। প্রোটন ও ইলেক্ট্রনের সংখ্যার জন্য একটি পদার্থ আর একটি পদার্থ থেকে আলাদা ধর্ম বিশিষ্ট হয়। যেমন, হাইড্রোজেন এটমের প্রোটন ও ইলেক্ট্রনের সংখ্যা মাত্র এক, হিলিয়াম পরমাণুর ঐ সংখ্যা দুই, লিথিয়ামের ৩, সোনার ৭৯, রেডিয়ামের ৮৮, ইউরেনিয়ামের ৯২ ইত্যাদি। এই রকম স্বতন্ত্র ধর্ম বিশিষ্ট পরমাণুগুলিকে মৌলিক পদার্থ বা Elements বলা হয়। আমরা যে জগতে বসবাস করি, এখন পর্যন্ত খবর পাওয়া পর্যন্ত এই এলিমেন্টের সংখ্যা মাত্র ১১৮। এই ১১৮টি মৌলিক পদার্থ একে অন্যের সাথে মিলে যৌগিক পদার্থ তৈরি করে। যা দিয়ে এই বিশাল সৌরজগৎ ও আমাদের শরীর এবং আমাদের সংসারের সমস্ত কিছু তৈরি হয়েছে। এই ১১৮টি পরমাণুর মধ্যে আমাদের এই সম্পূর্ণ শরীরটি মাত্র ১৩টি পরমাণু দিয়ে তৈরি হয়েছে।
এই ১১৮টি পরমাণু যখন একে অন্যের সাথে মিলে একটি নতুন ধর্ম বিশিষ্ট যৌগিক
পদার্থ তৈরি করে তখন তাকে Molecule বা অনু বলা হয়। যেমন - দুই পরমাণু হাইড্রোজেন এক পরমাণু অক্সিজেন মিলে এক অনু জল (H2O) হয়। এক পরমাণু সোডিয়ামের সাথে
এক পরমাণু ক্লোরিন মিলে এক অণু লবণ (NaCl) তৈরী হয়। এক পরমাণু কার্বন ২ পরমাণু অক্সিজেন সংযোগে কার্বন ডাই
অক্সাইড (CO2) গ্যাসের জন্ম
হয়। আশ্চর্য ব্যাপার হলো, এই দুই রকম প্রকৃতির দুই পরমাণু এক সাথে মিশে একটি স্বতন্ত্র গুণবিশিষ্ট এক বস্তু তৈরী করে।
যেমন সোডিয়াম হলো দাহ্য পদার্থ এবং ক্লোরিন হল বিষাক্ত একটি গ্যাস কিন্তু দুতি মিলিত হয়ে
তৈরি করে সাধারণ একটি লবণ।
জল, লবণ, প্রভৃতি সরল
অণু সহজে বুঝা যায়। কিন্তু যখন কোনো প্রোটিন বা শ্বেতসার কিংবা চিনির রাসায়নিক
মূর্তি'র আলোচনা করা হয় তখন দেখা যায় কোটি কোটি পরমাণু
একটি বিচিত্র ভঙ্গিতে মিলিত হয়ে এক একটি অনু তৈরি করে। মাত্র এক অনু রক্ত রঙে ১৬,৬৬৯
টি পরমাণু থাকে।




0 Comments